খুলনাঞ্চলে চলতি বছর কাঁঠালের বাম্পার ফলনের আশা

গাজী মনিরুজ্জামান,খুলনা ব্যুরো: খুলনা ও এর পাশর্^বর্তী জেলা ও উপজেলার কৃষকরা চলতি বছর অনুকূল আবহাওয়ার কারণে কাঁঠালের বাম্পার ফলনের আশা করছেন। কৃষকরা জানিয়েছেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও মুছি (কচি কাঁঠাল) পঁচা রোগ না হলে ভালো ফলন পাবেন তারা।

এ অঞ্চলের অধিকাংশ কাঁঠাল গাছগুলো বাগান ভিত্তিক না হলেও বাড়ীর আঙিনায়, রাস্তার দু’ধারে এবং পতিত জমিতে বেশি দেখা যায়। আর এসব গাছে ঝুলে থাকা কাঁঠালের দৃশ্য অনেকের নজর কাড়ে। কাঁঠাল পরিচর্যায় আলাদা কোনো যতœ নিতে হয় না বলে এর উৎপাদন খরচ কম।

কাঁঠাল বাংলাদেশের জাতীয় ফল। কাঁঠাল ভালোবাসেনা এমন লোক খুজে পাওয়া খুবই দুষ্কর। কৃষক ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর (ডিএই), খুলনা সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে প্রায় সব কাঁঠাল গাছেই কুড়ি (মুছি) বের হয়েছে এবং ফল ধরেছে। কাঁঠাল আকারে বড় হচ্ছে এবং পোকার আক্রমণের এখনও কোনও খবর পাওয়া যায়নি।

চাষীরা জানিয়েছেন, যদিও কাঁঠাল গাছের সংখ্যা সম্পর্কে কোনও পরিসংখ্যান পাওয়া যায় না। খুলনা বিভাগীয় ও জেলার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর (ডিএই)ও এই বিষয়ে কোনও পরিসংখ্যান সংরক্ষণ করেন না। তবে বেসরকারী হিসাব মতে, খুলনা জেলায় আনুমানিক ১০ লাখ কাঁঠাল গাছ রয়েছে। প্রতিটি গাছে প্রতি বছর গড়ে ১০ থেকে ১৫০টি পর্যন্ত কাঁঠাল ধরে।

খুলনা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মোঃ নজরুল ইসলাম বলেন, আধুনিক পদ্ধতিতে চাষাবাদ করলে কাঁঠালের ফলন দ্বিগুণ করা সম্ভব। তিনি আরো বলেন, সব শ্রেণির মানুষের কাছে কাঁঠালের ব্যাপক চাহিদা থাকা সত্বেও এর প্রসারে প্রধান বাধা হল উন্নত জাতের চারা। দেশে সনাতনী কায়দায় বীজ থেকে তৈরী চারা দিয়ে কাঁঠালের চাষ হয়ে আসছে। এ পদ্ধতিতে চারা লাগানোর ৭-৮ বছর পর ফল আসে।

উপ-পরিচালক নজরুল ইসলাম আরো জানিয়েছেন, খুলনা জেলার পাইকগাছা উপজেলার কপিলমুনি এলাকা এবং দিঘলিয়া, ফুলতলা, ডুমুরিয়া, রূপসা উপজেলায় সেরা মানের কাঁঠাল উৎপাদিত হয়। জেলার কাঁঠাল বাগানগুলি সুপরিকল্পিত নয়, তবে জেলার প্রায় প্রতিটি বাড়িতে কাঁঠাল গাছ দেখতে পাওয়া যায়।

দিঘলিয়া উপজেলার কাঁঠাল চাষী নাজমুল হোসেন জানিয়েছেন, তার উপজেলায় প্রতিটি কাঁঠাল গাছের গোড়া থেকে মগডাল পর্যন্ত কঁচি কাঁঠালে ভরে গেছে। তার বাড়ীর আশে পাশে ১৪টি কাঁঠাল গাছ আছে। গাছগুলিতে প্রচুর কাঁঠাল ধরেছে। এ বছর তার কাঁঠাল বিক্রির আশা ৫০ হাজার থেকে ৬০ হাজার টাকার। কাঁঠাল পাকে মুলত বৈশাখ-জ্যৈষ্ঠ মাসে। কাঁঠাল চাষীদের আশা প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষয়ক্ষতি না হলে এবার কাঁঠালের বাম্পার ফলন হবে।

এই অঞ্চলের কাঁঠাল চাষীরা তাদের বাগানে কোনও ধরনের সার ব্যবহার করেন না। এমনকি তারা কাঁঠাল গাছ চাষের আধুনিক পদ্ধতিও জানেন না। কাঁঠাল উৎপাদনের জন্য তারা মূলত প্রকৃতির উপর নির্ভরশীল।

কৃষিপণ্য কাঁঠাল মুলত একটি মৌসুমী সুস্বাদু ফল। কাঁঠালের বিচি তরকারীতেও সমান জনপ্রিয়। তাছাড়া বিচি ভেজেও খাওয়া যায়। কচি কাঁঠাল (ইচোড়) তরকারী হিসেবে শুটকি মাছ দিয়ে রান্না করে খাওয়া হয়। কাঁঠালের পিঠাও তো অতুলনীয় স্বাদ।

খুলনার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মে মাসের তৃতীয় সপ্তাহ থেকে স্থানীয় বাজারে পাঁকা কাঁঠাল দেখা যাবে বলে আশা করা হচ্ছে। পাকা কাঁঠাল রসালো, সুস্বাদু এবং ভিটামিন সমৃদ্ধ। ২ থেকে ৩ মাস কাঁঠালের ভরা মৌসুমের সময় পাইকার ও শ্রমিক শ্রেণির লোকদের বাড়তি আয়ের একটা সুযোগ সৃষ্টি হয়।

কাঁঠাল চাষীরা আশা করেন, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তাদের পণ্যের (কাঁঠাল) ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করার জন্য আরও ভাল বিপণন সুবিধা নিশ্চিত করবে। কারণ এই মৌসুমী ফল স্থানীয় চাহিদা পুরণ করে বিপুল পরিমাণ দেশের অন্যান্য জেলায়ও পাঠানো হয়।

খুলনাঞ্চলে কোন কাঁঠাল প্রক্রিয়াজাত করার ব্যবস্থা না থাকায় কৃষকরা তাদের নায্য দাম থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। কাঁঠাল কাঠ অত্যন্ত মূল্যবান। কাঠ দিয়ে সুন্দর সুন্দর আসবাবপত্র তৈরি করা হয়।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, খুলনা অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক মোঃ রফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, কাঁঠালের ফলন বাড়ানোর জন্য উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কাঁঠাল গাছের পাতা থেকে শুরু করে প্রতিটি অংশই বিভিন্ন কাজে ব্যবহার করা যায়। অন্য ফসলের তুলনায় এটি লাভজনক। আশা করছি, আবহাওয়া অনুকূল ও দাম ভালো পেলে চাষীরা লাভবান হবেন।

আরও পড়ুন...