
গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলায় নাটকের মঞ্চায়ন বাতিলের ঘটনা রাজনৈতিক কারণে হয়েছে বলে দাবি পুলিশের। নাটকের মঞ্চায়ন বাতিলের নেপথ্যে কোনো ধর্মীয় কারণ নেই বলেও পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে।
শুক্রবার (৪ এপ্রিল) পুলিশ সদর দপ্তরের ফেসবুক পেজে ওই ঘটনা নিয়ে একটি পোস্ট দেওয়া হয়। সেখানে বিভিন্ন গণমাধ্যমে ওই ঘটনা নিয়ে প্রকাশিত সংবাদকে ‘বিভ্রান্তিকর’ বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
পুলিশের ফেসবুক পোস্টে বলা হয়, ৩ এপ্রিল সকাল ১০টার দিকে গাজীপুর জেলার কাপাসিয়া থানার রানীগঞ্জ উদয়ন সংঘ মাঠে ঈদ সামনে রেখে ‘আপন দুলাল’ নামের একটি নাটক মঞ্চায়িত করার জন্য মহড়া অনুষ্ঠিত হয়। দুর্গাপুর ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক শামসুল হকের নেতৃত্বে বাজারের লোকজন মিলে এই মহড়া দিচ্ছিলেন।
পুলিশ বলছে, নাটকটি স্থানীয় বিএনপির জুনিয়র নেতারা আয়োজন করার কারণে দলের সিনিয়র নেতাদের সঙ্গে ঝামেলা সৃষ্টির আশঙ্কা তৈরি হয়। পরে উভয় পক্ষের সমঝোতার মাধ্যমে সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ও বিএনপির সাধারণ সম্পাদক খন্দকার আজিজুর রহমানের অনুরোধে দুর্গাপুর ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক শামসুল হককে নাটক মঞ্চস্থ করতে নিষেধ করা হয়। এরপর নাটকে অংশগ্রহণকারীরা তাঁদের সিনিয়র নেতার কথা মেনে নাটক মঞ্চস্থ করা থেকে বিরত থাকেন।
ঘটনার দিন মঞ্চ ভাঙার কোনো ঘটনা ঘটেনি উল্লেখ করে পুলিশ বলছে, নাটকে অংশগ্রহণকারীরা বিএনপির স্থানীয় জুনিয়র ও সিনিয়র নেতাদের মধ্যে অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের আশঙ্কা হওয়ায় সমঝোতার ভিত্তিতে নাটকটি মঞ্চস্থ করা থেকে বিরত থাকেন।
পুলিশের ফেসবুক পোস্টে বলা হয়েছে, কিছু সংবাদপত্র বিষয়টি নিয়ে বিভ্রান্তিকর সংবাদ প্রচার করছে। তা ছাড়া সংবাদপত্রসমূহে রানীগঞ্জ বাজার মসজিদের ইমাম ও খতিব আজিজুল হকের যে উদ্ধৃতি ছাপা হয়েছে সেটি তিনি বলেননি বলে জানিয়েছেন।
পুলিশ বলছে, কাপাসিয়ার বিষয়টি মূলত রাজনৈতিক ইস্যু, কোনো ধর্মীয় ইস্যু নয়। এ ক্ষেত্রে বিভ্রান্ত না হওয়ার জন্য সবাইকে অনুরোধ করা হচ্ছে। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন বলে জানিয়েছেন গাজীপুরের পুলিশ সুপার (এসপি)।
পুলিশের ফেসবুক পোস্টের নিচে পাঁচটি সংবাদমাধ্যমের এ–সংক্রান্ত খবরের লিংক দেওয়া হয়। এই খবরগুলোকে ‘বিভ্রান্তিকর’ দাবি করা হয়।
নাটকের মঞ্চায়ন বাতিলের এ ঘটনায় স্থানীয় রানীগঞ্জ বাজার মসজিদের ইমাম, রানীগঞ্জ বাজার মসজিদ কমিটির সভাপতি ও নাটক আয়োজনের সঙ্গে যুক্ত স্থানীয় নাট্যকর্মীর বক্তব্যের ভিত্তিতে করা হয়েছে।
ওই ঘটনা সম্পর্কে নাট্যকর্মী খন্দকার শাহাদাত হোসেন বলেছিলেন, গত বুধবার রাতে তাঁরা বাজারে বসে ছিলেন। এ সময় সেখানে রানীগঞ্জ বাজার মসজিদের ইমাম মো. আজিজুল হক, মসজিদের সভাপতি মো. সিরাজুল ইসলামসহ কয়েকজন মুসল্লি এসে তাঁদের নাটক মঞ্চায়ন করতে নিষেধ করেন। চিরদিনের জন্য এখানে নাটক বন্ধ রাখার কথা বলেন। এরপর নাটকের জন্য তৈরি মঞ্চ ও প্যান্ডেল বৃহস্পতিবার সকাল ৯টার মধ্যে ডেকোরেটরের লোকজন খুলে নিয়ে যান।
এ বিষয়ে রানীগঞ্জ বাজার মসজিদের ইমাম মো. আজিজুল হকের সঙ্গে কথা বললে তিনি বৃহস্পতিবার বলেছিলেন, যুবসমাজের ওপর খারাপ প্রভাব পড়ার আশঙ্কায় স্থানীয় ধর্মপ্রাণ মুসল্লি, গণমান্য ব্যক্তিরা নাটক আয়োজক কমিটিকে সেটি অনুষ্ঠিত না করার জন্য অনুরোধ করেন। পরে উভয় পক্ষ বসে আলোচনা করে নাটক মঞ্চায়ন বাতিল করার সিদ্ধান্ত নেয়। সবাই মিলে সেখানে দোয়া মাহফিলের সিদ্ধান্ত হয়।
এরপর রানীগঞ্জ বাজার মসজিদের সভাপতি মো. সিরাজুল ইসলামও বলেছেন, ‘আমরা সমাজের মুসল্লি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা সিদ্ধান্ত নিয়ে নাটক বন্ধ করে দিয়েছি।’