পিবিএ, ঢাবি : বিএনপির সহযোগী সংগঠন ছাত্রদল প্রায় নয় বছর পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ক্যাম্পাসে মিছিল করেছে। আজ বৃহস্পতিবার সকালে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা প্রথমে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের কার্যালয়ের সামনে জড়ো হন। এরপর তারা একঘণ্টা উপাচার্যের সঙ্গে বৈঠক করেন এবং তার কাছে স্মারকলিপি তুলে দেন। সেখান থেকে বেরিয়ে এসে ক্যাম্পাসে মিছিল করেন তারা। মিছিলে কেন্দ্রীয় ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা অংশ নেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের কাছে দেওয়া স্মারকলিপিতে ডাকসু নির্বাচন তিন মাস পেছানোসহ সাত দফা দাবি জানিয়েছে ছাত্রদল।
ঢাবি উপাচার্যকে স্মারকলিপি দিয়ে বের হওয়ার পর ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাজীব আহসান সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা সত্যিকারভাবে চাচ্ছি যে, ডাকসু নির্বাচন হোক। আর তার জন্য অবশ্যই প্রথমে সহাবস্থান নিশ্চিত করতে হবে।’ ঢাবি ছাত্রদলের সভাপতি মেহেদী তালুকদার বলেন, ‘তড়িঘড়ি করে নির্বাচন দেওয়ার কোনও মানে হয় না। এই নির্বাচন কোনোভাবেই অংশগ্রহণমূলক হবে না। সেক্ষেত্রে আরও সময় নিয়ে তিন মাস পিছিয়ে দক্ষভাবে যাচাই-বাছাই করলে আরও সুষ্ঠুভাবে নির্বাচন হবে।’
ছাত্রদলের সাত দফার দাবিগুলো হলো- সব ছাত্র সংগঠনের সহাবস্থান নিশ্চিত করতে হবে, ন্যূনতম আগামী তিন মাস বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে স্বাভাবিক রাজনীতি নিশ্চিত করতে হবে, তিন মাস নির্বাচন পেছানো, হলে হলে ভোটগ্রহণের পরিবর্তে অ্যাকাডেমিক ভবনে ভোটগ্রহণের ব্যবস্থা করতে হবে, ভোটার হওয়ার উপযুক্ত ঢাবির সব পর্যায়ের ছাত্রছাত্রীর ভোটার ও প্রার্থী হওয়ার সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে, নির্বাচনে প্রচার-প্রচারণায় সংগঠনের সাবেক নেতাদের অংশগ্রহণে সুযোগ দিতে হবে, গ্রেফতার ও হয়রানি করা যাবে না, সাধারণ নেতাকর্মী ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে, ডাকসু নির্বাচনের যেসব পরিচালনা কমিটি করা হয়েছে, সেগুলো পুনর্গঠন করতে হবে।
ছাত্রদলের দাবি ও স্মারকলিপির পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. মো. আক্তারুজ্জামান সাংবাদিকদের বলেন, ‘ছাত্রদলের নেতারা এসে আমার কাছে স্মারকলিপি দিয়ে গেছে। আমরা বলেছি, ডাকসুর জন্য নির্দিষ্ট গঠনতন্ত্র আছে এবং একটি আচরণবিধি প্রণীত হয়েছে। সেই গঠনতন্ত্র ও আচরণবিধি অনুসরণ করেই আমাদের ডাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। গঠনতন্ত্রের বিধিবিধান ও আচরণবিধি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সব শিক্ষার্থীর ক্ষেত্রে সমভাবে প্রযোজ্য হবে।’
ঢাবি উপাচার্য আরও বলেন, ‘ছাত্রদলকে একথা বলে দেওয়া হয়েছে। যার যার সাংগঠনিক কার্যক্রম তাদের নিজেদের সংগঠন মোতাবেক প্রচলিত হবে। কেবল উগ্রপন্থী ও নিষিদ্ধ সংগঠন ক্যাম্পাসে কোনও কর্মকাণ্ড করতে পারবে না।’
পরে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় ও বিশ্ববিদ্যালয় শাখার নেতাকর্মীরা পদযাত্রা নিয়ে ক্যাম্পাসের ভিসি চত্বর, টিএসসি হয়ে শাহবাগ দিয়ে চলে যান। এসময় ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাজিব আহসান, সাধারণ সম্পাদক আকরামুল হাসান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি আল মেহেদী তালুকদার, সাধারণ সম্পাদক আবুল বাসার সিদ্দিকীসহ সংগঠনের কেন্দ্রীয় ও বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
২০১০ সালের জানুয়ারি মাসে ছাত্রদল সর্বশেষ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে মিছিল ও সমাবেশ করে। ওই বছরের ১৮ জানুয়ারি ছাত্রদল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে মিছিল বের করলে ছাত্রলীগের হামলার মুখে পড়ে। তখন সে সময়ের সভাপতি সুলতান সালাউদ্দিন টুকুসহ ছাত্রদলের বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী আহত হন। এরপর আর ছাত্রদলকে ক্যাম্পাসে মিছিল করতে দেখা যায়নি। তবে এর পরের বছর (২০১১) ওই হামলার এক বছর পূর্তিতে হামলাকারীদের বিচারের দাবিতে ছাত্রদল শাহবাগ থেকে মিছিল বের করে ক্যাম্পাসে ঢোকার চেষ্টা করে। তবে পুলিশি বাধার কারণে ছাত্রদলের সেই চেষ্টা ব্যর্থ হয়।
পিবিএ/জিজি