একজন শাহীন বাউলার গল্প

পিবিএ,বেরোবি: শাহীন বাউলা। বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকসংগীত এর সবচেয়ে পরিচিত মুখ । পুরো ক্যাম্পাসে লোকসংগীত ছড়িয়ে দেয়ার পিছনে যেই মানুষটির মুখের ছবি ভেসে ওঠে তিনিই হলেন শাহীন বাউলা । তিনি বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যায়ের ইংরেজি বিভাগ থেকে মাষ্টার্স শেষ করেছেন । তিনি তার গান, একতারা এবং জীবনগাঁথা শুনিয়েছেন পিবিএ রিপোর্টার নাজমুল হুদা নিমুকে ।

শৈশব :
শাহীন বাউলার জন্ম সুনামগঞ্জ জেলার ধর্মপাশা উপজেলার সুনই গ্রামে । মারফতি,মরমী বাউলগানের প্রতি অনুরাগ ছোটবেলা থেকেই । বাবাও একজন বাউল অনুরাগী । মূলত তার বাবার কাছ থেকেই গান শেখার অনুপ্রেরণা । বাবার মুখেই প্রথম হাসন রাজা, লালন ফকির, শাহ আব্দুল করিম, দুর্বিন শাহ, জালালের গানের বাণী শোনা হয় । ছোটভাই সোহাগ বাঁশি বাজায় এবং লোকগান গায় । চার ভাইবোনের মধ্যে শাহীন বাউলা পরিবারের বড় সন্তান ।

গানের শুরু:
স্কুল থেকে এসে দু-চারটা ভাত নাকে মুখে দিয়েই গরু নিয়ে মাঠে যেতে হতো । আর সেখানে রাখালদের সাথে গলা ছেড়ে গান গাওয়ার অভ্যাস হয় । সুনামগঞ্জের মাঠে ঘাটে ছড়িয়ে রয়েছে মরমী বাউল গানের স্পর্শ । তার সংগীত চর্চার প্রথম ক্ষেত্র হয়ে ওঠে গরু চড়ানোর মাঠ । স্কুল কলেজ পর্যায়ে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে গান গাইতো । বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার পরে তিনি সংগীত সাধনায় মনোনিবেশ করেন ।

বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি হবার পর তিনি একতারা হাতে নেন এবং দীর্ঘদিন সাধনা করে একতারাকে বশে আনে । তার গান শুনে শিক্ষক ,বন্ধু বান্ধব ও শুভাকাঙ্ক্ষী বলতো একসময় অনেক বড় গায়ক হবি তুই । তার হাত ধরেই বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের একমাত্র লোকসংগীত দল ভবতরীর যাত্রা ।

গুরুর নাম: শাহ-জাহান ভান্ডারী
একতারা বাজাতে পারদর্শী হয়ে উঠে । গুরু শাহজাহান ভাণ্ডারীর হাত ধরে একতারা শিখার হাতে খড়ি ও মরমী গানের সুর তুলে । বাংলার মরমী সাধকদের গানের বাণীগুলো একতারায় ফুটিয়ে তুলে । যেখানে বাংলার সুস্থ ধারার সংস্কৃতি হারিয়ে যেতে বসেছে সেখানে সে বাংলার মূল ধারার সংস্কৃতি টিকিয়ে রাখতে কাজ করছে । তার কাছে একতারা, লোকগান, মারফতি, বাউল গান পরম আদরের বস্তু ।

 

নামের সাথে যেভাবে “বাউলা” শব্দটি যেভাবে যোগ হলো:
ছোটবেলা থেকেই বাউল গান করা হতো, ধীরে ধীরে বাউল গানের প্রতি ভালোবাসা আরও বেড়ে যায় । বাউল গানের প্রতি শ্রদ্ধা ভালোবাসা জানানোর উদ্দেশ্যেই নামের সাথে বাউলা শব্দটি যোগ করা । তারপর ধীরে ধীরে এই নামটি জনপ্রিয় হয়ে ওঠে এবং সবাই এই নামেই চিনে ।

অন্যান্য প্রতিভা:
খালি মুখেই তুলতে পারেন বিভিন্ন বাদ্যযন্ত্রের বিভিন্ন সুর এবং গানের সাথে ও তুলতে পারেন বিভিন্ন তাল ।

কি করতে পছন্দ করেন:
গান গাইতে অনেক পছন্দ করি । মাঠে ঘাটে, ক্যাম্পাসে, আড্ডায় সব সময়ই গান করতে পছন্দ করি ।

অবসরে কি করেন:
গান শুনি, গান গাই, বিভিন্ন বাদ্যযন্ত্র বাজানোর চেষ্টা করি । ও হ্যাঁ অবসরে বাংলা উপন্যাস পড়তে পছন্দ করি এবং সময় পেলে বাংলা টেলিফিল্ম ও দেখি ।

প্রাপ্তি:
সে ছিল প্রচার বিমুখ, বন্ধুদের অনুরোধে ফেইসবুকে প্রথম গান আপলোড করে এবং সেখানে সে ভালোই সাড়া পায় । তারপর ধীরে ধীরে এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ।

তার সঙ্গে কথা বলে জানা যায় সে, লোকগানকে ইতিবাচক ভাবে মানুষের নিকট ছড়িয়ে দিতে চায় । তার নিজের লেখা এবং সুর করা কয়েকটি গান ও আছে । তার মধ্যে “পিরিতের নাও শুকনায় চলে বলছে রাধা রমনে, আব্দুল করিম গাইলো গান প্রাণ বন্ধুয়ার স্মরণে” বেশ জনপ্রিয় ।

লোক-সংগীত দল ভবতরী:
তার আন্তরিকতায় ও প্রচেষ্টায় “ভবতরী” লোক-সংগীত দল বেরোবি ক্যাম্পাস ও রংপুরের বিভিন্ন জায়গায় পরিচিতি পায় । ক্যাম্পাসের ভিতরের এবং বাইরের বিভিন্ন জায়গা থেকে গান গাওয়ার অনুরোধ পায় “ভবতরী” লোক সংগীত দল । ভবতরীকে ভবিষ্যতে অনেক বড় জায়গায় নিয়ে যাওয়ার স্বপ্ন দেখেন শাহীন বাউলা । ভবতরী সম্পর্কে তিনি বলেন,

“প্রজন্মের পর প্রজন্ম আসবে, তবুও টিকে থাকবে ভবতরী”

ভবিষ্যতে কি করতে চান:
ভবিষ্যতে যাইই করি না কেন, সঙ্গীতের সাথে যুক্ত থেকে লোকসংগীতকে নতুন ভাবে সবার মাঝে ছড়িয়ে দিতে চাই ।

পিবিএ/নাজমুল হুদা নিমু/বিএইচ

আরও পড়ুন...