মাউন্ট মঙ্গানুই টেস্টে পুরো চারদিন নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখার ক্ষেত্রে বাংলাদেশি ক্রিকেটারদের দলগত পারফরম্যান্সই প্রধান ভূমিকা রেখেছে। তবে নিউজিল্যান্ডের দ্বিতীয় ইনিংসে এসে যেন সব আলো নিজের দিকেই কেড়ে নিলেন পেসার এবাদত হোসেন। একাই ৬টি উইকেট শিকার করেছেন তিনি। এতেই ১৬৯ রানে অলআউট হয়ে গেছে স্বাগতিকরা। বাংলাদেশের জয়ের জন্য টার্গেট মাত্র ৪০ রান।
অবশ্য, গতকাল ম্যাচের চতুর্থ দিনই (৪ জানুয়ারি) একাই কিউইদের শক্তিশালী ব্যাটিং লাইনআপে ধস নামান এবাদাত। ৫টি উইকেটের মধ্যে চারটিই তার দখলে। বাংলাদেশকে ইতিহাস সৃষ্টি করার স্বপ্ন দেখানো শুরু করেন। আজ বুধবার (৫ জানুয়ারি) পঞ্চম দিন সকালে মাঠে নেমে সেই স্বপ্নযাত্রা অব্যাহত রেখেছেন এই পেসার।
এবাদত হোসেনের বিখ্যাত স্যালুট, নিজের ৬ষ্ঠ উইকেট পাওয়ার পর। ছবি: টুইটার/ইএসপিএনক্রিকইনফো
প্রথমেই প্যাভিলিয়নে ফেরত পাঠান গতকালের অপরাজিত ব্যাটার রস টেলরকে। কিউইদের স্কোরবোর্ডে আর ৭ রান যোগ করতেই দিনের প্রথম আঘাতটি হানেন এবাদত। তার দুর্দান্ত এক ডেলিভারিতে সরাসরি বোল্ড হন টেলর। আউট হওয়ার আগে ১০৪ বল মোকাবিলায় ৪০ রান করেছেন এই অভিজ্ঞ ব্যাটার। এর মধ্য দিয়ে ক্যারিয়ারে প্রথমবারের মতো ৫ উইকেট শিকার করলেন এবাদত হোসেন।
এর কিছুক্ষণ পর আবারও বাংলাদেশ শিবিরে উল্লাস। এবার সিলেট এক্সপ্রেসের শিকার কেইল জেমিসন। ব্যক্তিগত রানের খাতা খোলার আগেই এবাদতের বলে শটে দাঁড়ানো শরিফুলের হাতে ক্যাচ তুলে দেন তিনি। তখন নিউজিল্যান্ডের স্কোর ১৬০ রান। শরিফুলের ক্যাচটি দেখার মতো ছিল। পরের দুটি উইকেট তাসকিন আহমেদের। তিনি যেন এবাদতের দেখানো পথেই হাটলেন।
গতির ঝড় তুলেছেন তাসকিন আহমেদ, নিয়েছেন ৩টি উইকেট। ছবি: টুইটার/আইসিসি
স্কোরবোর্ডে কোনো রান যোগ করার আগেই তাসকিনের দারুণ এক রিভার্স সুইংয়ে পরাস্ত হলেন রচিন রবীন্দ্র। ক্যাচ তুলে দেন উইকেটকিপার লিটস দাসের হাতে। এরপর ক্রিজে নেমে মাত্র ৪ বল খেলতে পেরেছেন টিম সাউদি। এবার তাকে বোল্ড করে দিলেন তাসকিন। এর আগে চতুর্থ দিন কিউই অধিনায়ক ও ওপেনার টম লাথামকে বোল্ড করে উইকেটের শুভসূচনা করেছিলেন এই পেসার।