পিবিএ,মাগুরা: যশোরে ট্রেনে কাটা পড়ে নিহত পুলিশ ইন্সপেক্টর মোহম্মদ সেলিমের বাড়ি মাগুরার শ্রীপুর উপজেলার কমলাপুর গ্রামে। তিনি এ গ্রামের মতিয়ার রহমানের ছেলে। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে সেলিমের মৃত্যুর খবর কমলাপুরে পৌছানোর সাথে সাথে নিহতের নিজ বাড়িসহ গোটা গ্রামে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। মৃত্যুর খবর পাবার সাথে সাথেই যশোরে রওনা হন নিহতের স্ত্রী ডলি পারভিনসহ অন্যরা। নিহত পুলিশ ইন্সপেক্টর সেলিমের শ্যালিকা মাগুরার শ্রীপুরের কমলাপুর জিকে আইডিয়াল কলেজের শিক্ষিকা আইরিন নাহার জানান, সোমবার রাতে তার দুলাভাই সেলিম মাগুরা শহরের জেলা পাড়ায় আইরিনের অপর বোন রনি পারভিনের বাড়িতে ছিলেন।
সেখান থেকে গতকাল মঙ্গলবার সকালে যশোরের উদ্দেশ্যে রওনা হন। পরবর্তীতে দুপুর ১২ টার পরপরই তারা ট্রেনে দুর্ঘটনায় সেলিমের মৃত্যুর খবর পান। ৭ ভাইবোনের মধ্যে সেলিম দ্বিতীয়। এক বছর আগে সেলিমের বাবা মতিয়ার রহমান মটর সাইকেল দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন। আইরিন জানান, শারীরীকভাবে অনেকটাই অসুস্থ ছিলেন সেলিম। তিনি ভারতে চিকিৎসা নিচ্ছেন। কয়েকদিন পর আবার ভারত যাবার কথা। তার বোন সেলিমের স্ত্রী ডলি পারভিন একইভাবে অসুস্থ। তিনি কয়েকদিন ধরে গ্রামের বাড়ি মাগুরার কমলাপুরে রয়েছেন। সেলিম গ্রামের বাড়ি মাগুরা কমলাপুরে নিয়মিত আসা যাওয়া করতেন।
এছাড়া যশোরের পুলিশ লাইন্সের পাশে কদমতলা এলাকায় ভাড়া বাড়িতে থাকতেন সেলিম। নিহত সেলিমের ১ ছেলে ১ মেয়ে। ছেলে সাফায়াত শাওন ঢাকায় বেসরকারি একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে বিবিএ পড়ছেন। মেয়ে সাফিয়া বন্যা পড়ছেন জাহাঙ্গীর নগর বিশ্বাবিদ্যালয়ে ফার্মেসী বিভাগে। সংসারে কোন অসন্তোষ ছিল না। এ কারনে এটি দুর্ঘটনা বলেই প্রাথমিকভাবে মনে করছেন তারা। তবে তার দুলাভাই সেলিম ঘটনাস্থল যশোরের মুড়ালি এলাকায় কেন গিয়েছিলেন সেটি তারা বুঝতে পারছেন না। তারা ঘটনার যথাযথ তদন্ত দাবি করছেন ।
কমলাপুরের পার্শ্ববর্তী গ্রাম নাকোলের বাসিন্দা নিহত সেলিমের বন্ধু আইয়ুব হোসেন জানান, নিহত সেলিম ছোটবেলা থেকেই সামাজিক ও বিনয়ী স্বভাবের। বেশকিছুদিন ধরে তিনি গ্রামের বাড়ি কমলাপুরে নিয়মিত আসা যাওয়া করছেন। তার মৃত্যুতে সবাই ভীষণভাবে মর্মাহত। বুধবার কমলাপুর গ্রামে তার দাফন সম্পন্ন হবে।
পিবিএ/এমআর/আরআই